শনিবার   ২৪ জুলাই ২০২১   শ্রাবণ ৮ ১৪২৮   ১৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
সর্বশেষ:
অ্যাস্ট্রাজেনেকার আড়াই লাখ ডোজ টিকা আসছে শনিবার কুষ্টিয়ায় করোনা ও উপসর্গে আরও ১৭ মৃত্যু, শনাক্ত ৫৭ ভারতে রেকর্ড ১.২৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি মেহেরপুরে রাজনগর গ্রামবাসীর জন্য সৌদিপ্রবাসীর অ্যাম্বুলেন্স উপহার রবিবার থেকে ব্যাংক লেনদেন দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ‘টিকার সর্বনিম্ন বয়সসীমা ১৮ বছর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার’
৬৬

এগিয়ে আসেনি নিজ সম্প্রদায়ের কেউ, লাশের সৎকার করলো মুসলিমরা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫ জুলাই ২০২১  

করোনা আক্রান্ত হয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিতসাধীন অবস্থায় মারা যান মিরপুর উপজেলার প্রফুল্ল কর্মকার (৭০) নামে এক বৃদ্ধ। তার মরদেহ নিয়ে প্রায় দেড়দিন শ্মশানে অবস্থান করার পরেও সৎকারে এগিয়ে আসেনি আত্মীয়স্বজনসহ শ্মশানের দায়িত্বপ্রাপ্তরা। পরে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু মানবিক ব্যক্তি মরদেহের সৎকারে এগিয়ে এসেছেন। তাদের এমন কাজ দেশজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। 

জানা গেছে, গত শনিবার রাতে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের হরিতলা এলাকার প্রফুল্ল কর্মকার। রাতেই এম্বুলেন্স করে মিরপুর পৌর শ্মশানে তার লাশ নিয়ে যায় স্ত্রী কল্পনা ও কয়েক স্বজন। সে সময় ওই শ্মশানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির মরদেহ হওয়ার কারণেই শ্মশান প্রাঙ্গণে তারা আসেননি। মরদেহ সৎকারেও অনীহা প্রকাশ করেন তারা। এ অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্স চালক মরদেহ নামিয়ে রেখে ফেরত যান। স্বজনরাও চলে যান বাড়িতে। মরদেহ নিয়ে একাকী বিপদে পড়েন স্ত্রী কল্পনা। কোন উপায় না পেয়ে কল্পনা স্বামীর মরদেহ নিয়ে পাশের বিদ্যালয়ের বারান্দায় অবস্থান নেন। স্বামীর পাশে বসে পার করেন পুরো রাত। সকালে শ্মশান কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও মরদেহ সৎকারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি তারা। এক পর্যায়ে বিষয়টি অবহিত করেন স্থানীয় প্রশাসনকে। পরে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ ওই শ্মশানের পাশেই সমাধি দেন প্রফুল্ল কর্মকারকে।

এ ব্যাপারে মৃত প্রফুল্ল কর্মকারের স্ত্রী কল্পনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অসুস্থ থাকায় তা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় কাউন্সিলর জাহেদ হোসেন বলেন, প্রফুল্ল কর্মকারের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা করোনা আক্রান্ত। সে কারণে তার পরিবারের সদস্যরা মরদেহ সৎকার করতে পারেননি। তবে হিন্দু সম্প্রদায়ের কেউও মরদেহটির সৎকার করার জন্য এগিয়ে আসেননি। পরে সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি জানালে তিনি স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনের সহায়তায় তাকে সমাহিত করার ব্যবস্থা করেন।

তিনি আরও জানান, প্রফুল্ল কর্মকার গত এক সপ্তাহ ধরে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে রাতে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী কল্পনা।

মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস জানান, বিষয়টি জানার পরপরই পৌর মেয়র ও স্থানীয় কাউন্সিলরকে অবহিত করেন। তারা স্থানীয় লোকজনকে দিয়ে সমাহিত করার কাজটি সম্পন্ন করেছেন।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর