বৃহস্পতিবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২১   অগ্রাহায়ণ ১৭ ১৪২৮   ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
সর্বশেষ:
রূপান্তরে বাংলাদেশ উত্তরণে বাংলাদেশ দুটি বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পে ২৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে জাপান শতবর্ষ উদযাপনে বর্ণিল সাজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যশোরে আনসার-ভিডিপি’র পতাকা র‌্যালি করোনা বাড়লে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবার বন্ধ হবে: প্রধানমন্ত্রী ভারত-পাকিস্তান থেকে নানা সূচকে এগিয়ে বাংলাদেশ
৫২

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়: প্রত্যাশা-প্রাপ্তির ৪২ বছর

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর ২০২১  

২২ নভেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ঘড়ির কাটা রাত ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে আতশবাজির আলোর ঝলকানিতে চারপাশ আলোকিত হয়ে ওঠে। একে একে ৪৩ আতশবাজি ফুটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শুরু হয়।

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। বিশ্ববিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর। নানা চড়াই উৎরাই পার করে কালের অবিচল সাক্ষী হয়ে ৪২ বছর পেরিয়ে ৪৩ বছরে পদার্পণ করেছে বিদ্যাপীঠটি। পিছনে ফেলে আসা ৪২ বছরের পথচলায় শত বাঁধা আর প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে দেশের উচ্চশিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে বিদ্যায়তনটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের উচ্চশিক্ষার প্রসারে তৎকালীন সরকার ১৯৭৬ সালে ১ ডিসেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। পরে ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়ার সীমান্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পরে ইসলামী ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে উচ্চশিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ১৯৮০ সালের ২৭ ডিসেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৮০ (৩৭) পাস হয়।

এরপর ১৯৮৬ সালের ২৮ জুন দুটি অনুষদের চারটি বিভাগে ৩০০ শিক্ষার্থী নিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয় প্রতিষ্ঠানটির। বর্তমানে আট অনুষদ ও ৩৪ বিভাগ রয়েছে। এছাড়া ৩৯০ জন শিক্ষক, ৪৬৮ জন কর্মকর্তা ও ৩২২ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৫ হাজার ৩৮৪ জন। শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিতে আটটি আবাসিক হল (পাঁচটি ছাত্র হল ও তিনটি ছাত্রী হল) রয়েছে। আবাসন সুবিধায় আরও দুটি ১০তলা হলের কাজ চলমান রয়েছে।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে ৫৩৭ কোটি ৭ লাখ টাকার মেগা প্রকল্পের আওতায় ক্যাম্পাসে ৯টি বহুতল ভবন ও একটি কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান গবেষণাগার, ১২টি ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, গভীর নলকূপ স্থাপন, দুটি ৫০০ কেভি বৈদ্যুতিক সাব স্টেশন, সোলার প্যানেল স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে।

এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ পর্যন্ত ৫১৪ জনকে পিএইচডি, ৬৯৬ জনকে এমফিল ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে ২৯০ জন পিএইচডি এবং ২১৯ জন এমফিল গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্ধশতাধিক বিদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি স্মরণে নির্মিত মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব ম্যুরাল যা দেশের দ্বিতীয় উচ্চতম বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল, মুক্তবাংলা, শহীদ মিনার, পানির ফোয়ারা, শাশ্বত মুজিব ম্যুরাল এবং ৭ মার্চের ভাষণ সম্বলিত মুক্তির আহ্বান নির্মিত হয়েছে। এখানে রয়েছে মনোমুগ্ধকর ইবি লেক।

করোনা কারণে গত বছর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস সীমিত পরিসরে পালিত হলেও এ বছর দিবসটি উপলক্ষে বেশ কিছু আয়োজন রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গুলোতে ফুটে উঠেছে আলপনা। আবাসিক হল ও ভবনসমূহে আলোকসজ্জার পাশাপাশি, আনন্দ শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দোয়া-মোনাজাতের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ভালো গবেষণা করেন। কিন্তু সেগুলো সুগঠিত না হওয়ায় প্রকাশ পায় না। আমরা এ বিষয়টির দিকে নজর দিচ্ছি। এছাড়া বর্তমান মেগা প্রজেক্ট ভালোভাবে সম্পন্ন করা এবং শিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর