মঙ্গলবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ১৫ ১৪২৬   ০২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

ইউএনও কার্যালয় ও পৌরসভার ৩০ লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০২০  

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও গাংনী পৌরসভার ৩০ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়েছে। মৌখিক ও লিখিতভাবে বারবার তাগাদা দিয়েও এই বিল আদায় সম্ভব হচ্ছে না। অথচ দুই-তিন মাসের বিল বকেয়া পড়লেই ব্যক্তি মালিকানাধীন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

গাংনী পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী অফিসের নামে মেইন মিটার যার হিসাব নম্বর-১৩৬/৪৪১০, ১৯৯৮ সালের মে থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়ার পরিমাণ ১৩ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৬ টাকা। অফিস ভবনের হিসাব নম্বর-১৩৬/৬৮৩০, ২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বকেয়ার পরিমাণ দুই লাখ ৩৬ হাজার ৬৫ টাকা।

জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আবাসিক ভবনের বকেয়া টাকার পরিমাণ ৫৩ হাজার ৩০৮ টাকা। উপজেলা নির্বাহী অফিসের পানির পাম্পের বকেয়া ১৮ হাজার ৮৬৫ টাকা। সব মিলিয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অধীনে মোট বকেয়া ১৫ লাখ ৬৩ হাজার ৬৭৮ টাকা।

অন্যদিকে, গাংনী পৌরসভার এ পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল বকেয়া আছে ১৫ লাখ ৭৯ হাজার ৬৫১ টাকা। মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন নির্ধারিত দর অনুযায়ী বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ কিনে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করে থাকে।

এ ব্যাপারে মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গাংনী জোনাল অফিসের (ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার) ডিজিএম নিরাপদ দাস জানান, বকেয়া বিল আদায়ের লক্ষ্যে মৌখিকভাবে বারবার তাগাদাসহ অনুরোধ করা হলেও বকেয়া পরিশোধে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা ও পৌর মেয়র।

এ ব্যাপারে গাংনী পৌরসভার মেয়র আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার সময়ে এক মাসের বিলও বকেয়া নেই। বিগত মেয়র পাঁচ বছরের বিল বকেয়া রেখে গেছেন, যা এখন আমার ঘাড়ে পড়েছে। তবে ধীরে ধীরে এসব পরিশোধ করা হচ্ছে। আশা করি, শিগগিরই বকেয়া পরিশোধ হয়ে যাবে।’

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা রহমান বলেন, ‘আমার পরিষদের টাকা বকেয়া নেই। বকেয়া আছে উপজেলা পরিষদের। আমি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহোদয়কে বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য বলেছি। সরকারিভাবে বিদ্যুৎ বিলের জন্য আলাদা বরাদ্দ না থাকায় সমস্যা হচ্ছে। তবে শিগগিরই বকেয়া বিল পরিশোধ করা হবে।’

গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ খালেক বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হওয়ার পর এক মাসেরও বিল বকেয়া নেই। বিগত চেয়ারম্যানের আমলে বকেয়া থাকতে পারে।’

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর