শনিবার   ১৮ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ৫ ১৪২৬   ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

৩২

আলমডাঙ্গায় প্রতিবন্ধী কলেজছাত্রীকে বিয়ের নামে লাগাতার ধর্ষণ!

নিজস্ব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৬ ডিসেম্বর ২০১৯  

দীর্ঘ পাঁচ বছর শারীরিক প্রতিবন্ধী এক কলেজছাত্রী মাথিনাকে (ছদ্মনাম) ধর্ষণ করে আসছিলো কথিত প্রেমিক মুন্না। ধর্ষণ কার্মকাণ্ডকে দীর্ঘায়িত করতে নামকাওয়াস্তে বিয়ের কাবিনও করে মুন্না। তারপর একটি সাবলেট নিয়ে সংসারের নামে ধর্ষণকে জায়েজ করে আসছিলো সে। এভাবে দশ মাস অতিক্রমের পর হঠাৎ করেই সম্প্রতি অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করে ফেলে মুন্না। তারপর থেকে কলেজছাত্রীটি তার মর্যাদা পেতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।

০৫ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) দুপুরে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিটন আলীর কাছে মুন্নার বিরুদ্ধে সবিস্তারে জানান মাথিনা। নির্বাহী অফিসার মুন্নার বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন।

জানা গেছে,আলমডাঙ্গার পাঁচলিয়া গ্রামের খোয়াজ আলীর কলেজপড়ুয়া মেয়ে মাথিনার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এরশাদপুর গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে মুন্নার। এক পর্যায়ে তারা শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ পাঁচ বছর তাদের সম্পর্ক চলার পর এটা নিয়ে লোকজনের প্রশ্ন এড়াতে মুন্না মাথিনাকে নিয়ে দশ মাস আগে চুয়াডাঙ্গায় কোর্টে গিয়ে কোর্ট ম্যারেজ করে। এরপর মুন্না শহরের একটি বাড়িতে সাবলেট নিয়ে মাথিনাকে রাখে।

এর মাঝে বাড়ির চাপাচাপিতে মাথিনাকে না জানিয়ে আরেক মেয়েকে বিয়ে করে সংসার শুরু করে মুন্না। এতে মাথিনা ক্ষীপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি সর্বস্ব হারানোর ক্ষোভে গত ২ ডিসেম্বর সোমবার সকালে মুন্নার বাড়িতে গিয়ে ওঠেন। তখন মুন্নার বাড়ির লোকজন মাথিনাকে জোর করে বাড়ি থেকে বের দেয়। তিনি এখন স্ত্রীর মর্যাদা পেতে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের কাছে কাছে ঘুরছেন।

মুন্না বিষয়টি স্বীকার করে বলে, মাথিনার কোমরের নিচের অংশে প্রতিবন্ধী। তার বাড়ির লোকজন মাথিনাকে মেনে নিতে না পারায় তাকে বাড়িতে তোলা হয়নি। পরিবারের চাপে সে অন্য মেয়েকে বিয়ে করেছে। এখন তার পক্ষে মাথিনার সঙ্গে সংসার করা সম্ভব নয় বলেও জানায় মুন্না।

মুন্নার একাধিক বন্ধু সূত্র জানিয়েছে, মাথিনাকে নামকাওয়াস্তে বিয়ে করে সংসার না করলেও চলবে হিসাব করে মুন্না দীর্ঘদিন ধরে দৈহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখে। পরে প্রতিবন্ধীর কথা বলে সে বাড়িতে তুলতে অস্বীকৃতি জানায়।

আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ আশিকুল ইসলাম জানান, নির্যাতীতা মেয়ের পক্ষ থেকে আইনের আশ্রয় নিলে পুলিশ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। 

মাথিনার পরিবারের সূত্র জানিয়েছে, বিকালে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ জানিয়ে রাতেই থানায় মামলা দায়ের করা হবে।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর