সোমবার   ০৬ জুলাই ২০২০   আষাঢ় ২১ ১৪২৭   ১৪ জ্বিলকদ ১৪৪১

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
১১৮

আম্ফানে চুয়াডাঙ্গায় প্রায় ৩২ কোটি টাকার ক্ষতি আমচাষিদের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ মে ২০২০  

লাভ বেশি হওয়ায় আম চাষের দিকে ঝুঁকিছেন চুয়াডাঙ্গার চাষিরা। কিন্তু প্রকৃতির তাণ্ডবে এবার সব এলোমেলো হয়ে গেছে। থোকায় থোকায় থাকা আম ঝড়ে পড়েছে। বাকি আমও বাজারজাতকরণ নিয়েও তারা রয়েছেন দুচিন্তায়। সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে চুয়াডাঙ্গার আম চাষীরা প্রায় ৩২ কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে জেলায় এক হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে আম বাগান ছিল। চলতি মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯৮০ হেক্টরে। এ হিসাবে চলতি মৌসুমে ৩০ হেক্টর জমিতে আমের নতুন বাগান হয়েছে। এ সব বাগান থেকে ফলন হবে ২৯ হাজার ৭০০ মেট্রিকটন আম।  পাইকারি প্রতি মন এক হাজার ২০০ টাকা হিসাবে বিক্রি হলে হবে ৮৯ কোটি ১০ লাখ টাকা। মূলত আম চাষ লাভজনক হওয়ায় জেলার কৃষকরা আম বাগান তৈরি করার দিকে ঝুঁকছেন। তবে সাম্প্রতিক ঝড়ে ১০ হাজার ৫৮৪ মেট্টিক টন আমের ক্ষতি হয়েছে। যার মূল্য ৩১ কোটি ৭৫ লাখ ২০ হাজার টাকা ।

চুয়াডাঙ্গার জেলা আম ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম জানান, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কেশবপুর গ্রামের মাঠে ৪০ লাখ টাকায় ৭০ বিঘা জমি বর্গা নেই। এরপর ১০ হাজার আমের চারা রোপনসহ বাগান তৈরি করতে আরো ৩৫ লাখ টাকা খরচ হয়। এখনো খরচের সিংহভাগই উঠে আসেনি। এবার ফলন ভাল হয়েছে। করোনার কারণে বাজারজাত নিয়ে দু:চিন্তায় আছি। তবে আমাদের এলাকার হিমসাগর, ল্যংড়া, বোম্বায়, আমরুপালিসহ অনেক ভাল ভাল জাতের আম ফলে। এ সব আম খুবই সুস্বাদু, দেশ বিদেশে এর খ্যাতি আছে। তবে পর পর দুটি ঝড়ে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।  এ মৌসুমে  আম বিক্রি করে সারা বছরের বাগান পরিচর্যা ও শ্রমিকের মজুরি উঠে আসবে না ।

আম বর্গাচাষি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, চুয়াডাঙ্গায় উৎপাদিত আম জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, চিটাগাং, বরিশাল, সিলেটসহ বাংলাদেশে বিভিন্ন মোকামে রপ্তানি করে থাকি। কিন্তু করোনার কারণে আমাদের এই আমগুলো বাজারজাত করার জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকের সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

আম বর্গাচাষী রফিকুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিন আগে বয়ে যাওয়া আম্ফান ও  কালবৈশাখী ঝড়ে প্রচুর আম গাছ থেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এতে আমরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। অবশিষ্ট যে আমগুলো গাছে আছে, এর সঠিক বাজারজাতকরণ দরকার। 

আমবাগান শ্রমিক ফরজুল খাঁ জানান,  আম গাছে মুকুল আসার আগ থেকে ১৮-২০ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করি। আমাদের প্রতিমাসে ৯ থেকে ১৫ হাজার পর্যন্ত বেতন দেয়। আম গাছ থেকে পাড়ার সময় আরো অতিরিক্ত শ্রমিক নেয়া হয় দিন হাজিরাই। তাদেরকে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা করে দেয়া হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক আলী হাসান বলেন, চুয়াডাঙ্গার হিমসাগর আম বিখ্যাত। আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা জাতে সঠিক দামে আম বিক্রি করতে পারে এ জন্য জেলা প্রশাসনকে সাথে নিয়ে আমরা এক সঙ্গে কাজ করছি। এ জেলা থেকে বিভিন্ন মোকামে আম পাঠাতে বা বিক্রি করতে কোন ধরনের সমস্যা যেন না হয় সে দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখছি। বিভিন্ন মোকাম থেকে যে সকল ব্যবসায়ীরা চুয়াডাঙ্গায় আম কিনতে আসবেন তাদের নির্বিঘ্নে আসা, থাকা, খাওয়া এবং নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত সব কিছুর দেখভাল করার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। তবে সম্প্রতি ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ আমসহ সকল প্রান্তিক চাষিকে কৃষি প্রণোদনার আওতায় নিয়ে আসার জন্য সরকার ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর