সোমবার   ১৫ জুলাই ২০২৪   আষাঢ় ৩০ ১৪৩১   ০৭ মুহররম ১৪৪৬

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
সর্বশেষ:
দেশের চার বিভাগে ভারী বর্ষণের আভাস জাতীয় রপ্তানি ট্রফি পেল ৭৭ প্রতিষ্ঠান ব্যবসা-বাণিজ্য যাতে সহজ হয় সর্বদা সেই কাজই করছি: প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রপ্তানি বাণিজ্য প্রসারের বিকল্প নেই দেশে কোনো মানুষ অতিদরিদ্র থাকবে না: শেখ হাসিনা
৬৯

‘আমি তোমাদের বাবা বলে আমার সব কথাই বিশ্বাস করবে না’

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩ জুলাই ২০২৪  

দক্ষিণী সিনেমার দাপুটে অভিনেতা বিজয় সেতুপাতি। একেবারে শূন্য থেকে শুরু করে ক্যারিয়ারের শীর্ষে অবস্থান করছেন। যশ-খ্যাতির পাশাপাশি পেয়েছেন অর্থবিত্ত। কয়েক দিন আগে মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত ‘মহারাজ’ সিনেমা। এটি তার পঞ্চাশতম সিনেমা। মুক্তির পর এ সিনেমাও দারুণ সাড়া ফেলেছে।

ব্যক্তিগত জীবনে দীর্ঘদিনের প্রেমিকা জেসির সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন বিজয়। এক সময় তারা দুজনেই দুবাইয়ে চাকরি করতেন। এ দম্পতির এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে। বছর জুড়েই সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন বিজয়। তার পরিবারকেও সেভাবে ক্যামেরার সামনে দেখা যায় না। এবার পরিবার নিয়ে কথা বললেন বিজয়। ব্যাখ্যা করলেন কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা স্পর্শকাতর বিষয়!

এ আলাপচারিতায় ৪৬ বছর বয়সি বিজয়ের কাছে জানতে চাওয়া হয়, কাজ এবং ব্যক্তিগত জীবন কীভাবে ব্যালেন্স করেন? জবাবে বিজয় সেতুপাতি বলেন, ‘যতটা সম্ভব আমি আমার পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাই। আমি আমার বাচ্চাদের গল্প বলি। আমার মেয়ের বয়স ১৬ বছর। কয়েক সপ্তাহ আগেও আমার মেয়েকে বলেছিলাম, আমাকে এলোমেলো শব্দ দাও। যেমন— হাতি, শিয়াল, বাঁধা কপি প্রভৃতি। যখনই সম্ভব হয়, তখন তাকে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে আসি। আমার ছেলেকে আমি প্রথমবার শেভ করিয়ে দিয়েছি এবং উদযাপন করেছি। সব কিছুই ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করি না। কিন্তু এসব দৃশ্য আমার ফোনে রাখি। শুটিংয়ের কাজে যখন অনেক দূরে থাকি, তখন এসব দেখি।’

ছেলে-মেয়েদের কীভাবে বড় করছেন তাও ব্যাখ্যা করেছেন বিজয়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার সন্তানেরা বড় হয়েছে। সুতরাং আমি মনে করি, আমি সে পর্যায়ে পৌঁছেছি, যেখানে বাবা হিসেবে দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেতে শুরু করেছি। আমার মতে, প্রথম ৫-৬ বছর সন্তানদের মাতৃস্নেহ দেওয়া উচিত। তাদের বয়স যখন ১৭-১৮ বছর, তখন পিতা হিসেবে তাদের দিক-নির্দেশনা, শাসন করা উচিত। এটা অনন্ত পাঁচ বছর করা উচিত।’

বিজয় চান না, তার ছেলে-মেয়েরা বাবা বলে তার সব কথাই বিশ্বাস করুক। কারণ ব্যাখ্যা করে বিজয় সেতুপাতি বলেন, “পৃথিবী, জীবন, আমাকে এবং আমার কাজ তাদের বোঝাতে চাই; যাতে ভালো-মন্দ দুটোই থাকবে। তাদের সঙ্গে সবকিছু নিয়েই আলোচনা করার চেষ্টা করি। আমি চাই না, তারা কেবল আমার ভালো দিকটাই দেখুক। সুতরাং যতটা সম্ভব আমি তাদের সঙ্গে খোলামেলা থাকার চেষ্টা করি। তারা যদি জীবনটা বুঝতে পারে তাতেই যথেষ্ট। আমি সবসময়ই তাদের বলি, ‘আমি তোমাদের বাবা বলে আমার সব কথাই বিশ্বাস করবে না।’ এতে করে তারা তাদের নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।”

১৯৯৬ সালে দুটো সিনেমায় ছোট চরিত্রে কাজ করেন বিজয় সেতুপাতি। তারপর জীবিকার তাগিদে দুবাইয়ে পাড়ি জমান। কয়েক বছর সেখানে অ্যাকাউন্ট্যান্ট পদে কাজ করেছেন তিনি। ২০০৩ সালে দুবাই থেকে ফিরেই প্রেমিকা জেসিকে বিয়ে করেন বিজয়। এরপর ফের অভিনয়ে ফেরেন এই অভিনেতা।

২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তামিল ভাষার ‘সুন্দরাপান্দিয়ান’ সিনেমায় মূল চরিত্রে কাজের সুযোগ পান বিজয়। এটি বাণিজ্যিকভাবে সাফল্য পাওয়ার পর বিজয়কে নিয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠেন পরিচালকেরা। বর্তমানে খলচরিত্রে অভিনয়ের জন্য সিনেমাপ্রতি ২৫ কোটি রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৫ কোটি ২১ লাখ টাকার বেশি) পারিশ্রমিক নেন বিজয় সেতুপাতি।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা