রোববার   ০৯ আগস্ট ২০২০   শ্রাবণ ২৫ ১৪২৭   ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
২৫৯

‘আমি এসেছি ভবিষ্যৎ থেকে...’

প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারি ২০১৯  

আমরা শুধুমাত্র চলচ্চিত্রেই টাইম মেশিনকে নিয়ে গল্প দেখেছি। আমাদের মধ্যে কিছু মানুষ কঠোরভাবে বিশ্বাস করে যে টাইম মেশিনের অস্তিত্ব আছে এবং রীতিমত টাইম ট্রাভেল হয়েও চলেছে। আবার কিছু মানুষের কাছে এটি ভবিষ্যৎ। তেমনি কিছু মানুষের কাছে এটি ফেরিটেল এর গল্পের মতোই। এইতো গেল সাধারণ মানুষের মতামত কিন্তু এবার কথা বলা যাক কিছু অসাধারণ মানুষের কথা যারা বাস্তবে টাইম ট্রাভেল করেছেন এমনকি প্যারালাল ইউনিভার্স থেকে আসার দাবিও করেছেন। এর মধ্যে কিছু কাহিনী আর বাস্তব কাকতালীয়ভাবে অনেকাংশে মিলে গিয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা ও বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বাধ্য হয়েছেন।

 

আপনি টাইম ট্র্যাভেলে বিশ্বাস করেন কি না জানি না কিন্তু তাদের কাহিনী শুনে হতচকিত এবং রোমাঞ্চিত হবেনই কারণ এগুলো ছিল ব্যাপক রহস্যময় ঘটনা। তো চলুন শুরু করা যাক-

সময়টা ছিল ১৯৭৩ সাল, স্কুইরেল নামের এক ব্যক্তি ইংল্যান্ডের ভ্রমণের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন। পথে হাঁটতে হাঁটতে তার কিছু জিনিস কেনার কথা মনে পড়লো। তিনি রাস্তার পাশের একটি স্টেশনারি দোকানে ঢুকলেন। দোকানটা ছিল বেশ পুরনো ও আশ্চর্যজনকভাবে দোকানের মেয়ে কর্মচারীও ৫০ বছর আগেকার মেয়েদের মতো পোশাক পড়েছিল। স্কুইরেল ততটা গুরুত্ব দিলো না এবং চিঠির খাম কিনে দোকান থেকে বেরিয়ে গেলেন। কিছু সপ্তাহ পরে স্কুইরেল কাজের উদ্দেশ্যে ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎই তার চোখে পড়ল পুরনো দোকানটি আর ওই স্থানে নেই। আর ওই জায়গায় আধুনিক একটি বড় দোকান। স্কুইরেল সেই মুহূর্তে দোকানে ঢুকেন, আর ছোট দোকানটির কথা জিজ্ঞাসা করলেন। কিন্তু তার কোন কথাই কেউ বুঝতেই পারছিল না। আর পুরনো যুগের ড্রেস পরা মেয়ে কর্মচারীটিকে চিনতে অস্বীকার করছিল।

দোকানের মালিক স্কুইররেলকে জানালো যে এই দোকানটি বহু বছর ধরে একই রকমই রয়েছে। আর এখানে কোনো মেয়ে কর্মচারী কাজ করে না, এমনকি দোকানদারকে চিঠির খামটি দেখানোর পরেও সে বলল ওই ধরনের খাম তাদের দোকানের কখনোই বিক্রি করা হয়নি। স্কুইরেল এই অদ্ভুত বিষয়টার ব্যাপারে সবাইকে জানান। এই ঘটনার সত্যতা উদঘাটন করার উদ্দেশ্যে এক্সপার্টরা চিঠিটিকে নিলেন এবং খামটি পরীক্ষা করে যা জানা গেল তা শুনলে আপনি অবাক হবেন কারণ অই ধরনের খাম ৫০ বছর আগে তৈরি করা হতো। ১৯২০ সালের পর থেকে ওইখানে এসব খাম তৈরি হওয়া বন্ধ হয়ে যায়। তাহলে স্কুইরেল এর সাথে কি হয়েছিল? কোথা থেকে তিনি এত পুরনো খাম পেলেন? তিনি কি টাইম ট্রাভেল করে অতীতে চলে গিয়েছিলেন যেখানে হুবুহু একই জায়গায় একটি দোকান ছিল।

এই ঘটনা রহস্য আজও অজানাই রয়েছে। অনেকে মনে করে স্কুইরেল তার পুরনো সংগ্রহ নিয়ে একটি মজা করে ছিলো। যেহেতু ঘটনাটি ঘটেছিল একটি ইন্ডিভিজুয়াল মানুষের সঙ্গে তাই এই ঘটনাটিকে ততটা বিশ্বাসযোগ্য নাও মনে হতে পারে আপনার। কিন্তু দ্বিতীয় ঘটনাটি আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা কেউ প্রশ্নের মুখে ফেলে দেবে।

২০০০ সালে পোস্ট টু পোস্ট আর টাবিল নাম এর এক্তি ফোরাম যেখানে সবাই বিভিন্ন টপিকে আলোচনা করতো। দুই নভেম্বর জন টাইটর নামের একটি নিউ একাউন্ট সেখানে যোগ হল। সে ফোরামে একটি পোস্ট করেছিলো যা পুরো বিশ্বের মানুষকে হতভম্ব করার জন্য যথেষ্ট ছিল। সে লিখেছিল আমি একজন টাইম ট্রাভেলার। আমি ২০৩৬ সাল থেকে এসেছি। ১৯৭৫ সালে আইবিএম ৫১০০ কম্পিউটারটিকে নিতে গিয়েছিলাম। আমেরিকান গভারমেন্ট টাইম ট্র্যাভেলের এই প্রোজোজেক্টটির জন্য স্পেশালি আমাকেই যোগ্য মনে করেছে। কারণ আমার গ্র্যান্ডফাদার আইবিএম অফিসে কাজ করতেন এবং এই কম্পিউটারটি বানানোর সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।

আমি ২০০০ সালে এসে থেমেছি। আমি একজন আমেরিকান সেনাবাহিনীর অফিসার। ফ্লোরিডার ট্রাম্পা শহরে আমি থাকি। বেশিরভাগ মানুষই জন টাইটর মিথ্যা বলছে ভেবে বিষয়টিকে ইগনোর করল। কিন্ত অনেকেই জন এর পস্টে রিপ্লাইয়ে তার টাইম ট্রাভেলর হওয়ার প্রমাণ দেখতে চেয়েছিল। এরপর সে যেটা পোস্ট করলো তা দেখে বিজ্ঞানীরাও চমকে যেতে বাধ্য হন। জন টাইটর টাইম মেশিনের ডিজাইন এর ফটো পোস্ট করল। তার কথা অনুযায়ী মেশিন টির নাম সি টু জিরো জিরো ফোর। টাইম ডিসপ্লেসমেন্ট ইউনিট এবং সেটা তার গাড়ির ভেতরে ফিট করা আছে বলে দাবি করেছেন সে। এমনকি জন টাইটর কিছু ভবিষ্যৎবাণীও করেছিলেন যেগুলো ৫০ ভাগই মিলে গেছে।

সে বলেছিল সাউথ আফ্রিকার দেশ পেরুতে ভূমিকম্প হবে। তার পোষ্টের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই ২৬ শে জুন ২০০১ সালে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পটি হয়েছিল পেরুতে। এর ফলে প্রচুর মানুষ নিজেদের প্রাণ ও বসতি হারিয়েছিলেন। স্পেস স্যাটেলাইটের ওভার র‍্যাটিং প্রবলেম এর সমাধান করার বিষয়ে বলেছিলেন সে। কলোম্বিয়াই স্পেইসক্রাফট ওভার রেটিং সমস্যার কারণে দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়েছিল। জন এটাও বলেছিলো ২০০৪ সালে শেষ অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু আমরা সকলে জানি তার এই অনুমানটি সম্পূর্ণ ভুল ছিল। তবে সাধারণ মানুষ এবং বিজ্ঞানীদের মনে একটি প্রশ্ন থেকেই যায় কিভাবে একজন মানুষের ৫০ ভাগ ভবিষ্যৎবাণী সঠিক প্রমাণিত হতে পারে।

পেরুতে ঘটা ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ কারো পক্ষেই আগে থেকে অনুমান করা প্রায় অসম্ভব। এটি সত্যিই খুব অদ্ভুত বিষয়। ২০০১ সালের ২৪ শে মার্চ জন টাইটর শেষ পোস্টটি করেছিলেন। এই পোস্টটির পর থেকে আর কোন পোস্ট করেনি। একটি বইও লেখা হয়েছে তার নামে। বইটির নাম হল জন টাইটর অ্যা টাইম ট্রাভেলরস টেল। এমন অনেক ঘটনা আপনারা ইন্টারনেটে প্রত্যেক বছর পেয়ে থাকেন। যেসকল মানুষের দাবি করে তাদের সাথে এরকমই কিছু ঘটেছে। যার পেছনে কোন বৈজ্ঞানিক তথ্য আজও কাজ করে না। তবে এইসব ঘটনা আমাদের ভাবতে বাধ্য করে যে সত্যিই কি কোনদিন মানুষ দ্বারা প্রকৃত টাইম মেশিন বানানো সম্ভব।

আপনাদের কি মনে হয় কোনদিন মানুষ যারা প্রকৃত টাইম মেশিন বানানো সম্ভব? তবে যদি টাইম মেশিন সত্যিই ভবিষ্যতে বানানো যায় তবে সাধারণ জ্ঞানে এটাই বোঝা যায় যে কিছু মানুষ হয়তো আমাদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছে যারা ভবিষ্যৎ থেকে এসেছে। আমি ব্যক্তিগত জানি না যে তারা কি করছে তবে ভালো মানুষেরা যদি টাইম মেশিনের মাধ্যমে এসে থাকে তবে হয়তো আমরা কোনদিন ইতিহাসের পাতা থেকে হিরোশিমা নাগাসাকি কিংবা সারা বিশ্ব জুড়ে ব্রিটিশদের অত্যাচার এর ঘটনাগুলো মুছে যেতে দেখব।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা