সোমবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১   আশ্বিন ৪ ১৪২৮   ১২ সফর ১৪৪৩

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
সর্বশেষ:
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে গুরুত্ব পাবে যে ৬টি বিষয় শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে আসছে সৌদি সরকার বাংলাদেশের সুগন্ধি চাল বিশ্বময় সুবাস ছড়াচ্ছে মোংলা বন্দরে নির্মিত হচ্ছে আরও ৬টি জেটি
১০

আফগান নারীরা বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে বলতে শিখেছে `অধিকার চাই`

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১  

১৫ আগস্ট কাবুল দখলের পর থেকে যুদ্ধের পোশাক পরে রাস্তায় রাস্তায় টহল দিচ্ছে তালেবান সদস্যরা। কাবুলের অনেক বাসিন্দাই এমন দৃশ্য দেখতে অভ্যস্ত নয়। কঠোর হাতে তালেবানের নিরাপত্তা রক্ষার কৌশল সেখানে কোনো কাজে আসছে না। এর আগে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তালেবান যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন আফগান নারীদের পুরুষ ‘অভিভাবক’ ছাড়া বাড়ির বাইরে যাওয়া নিষেধ ছিল। অপরিচিত কেউ যেন গলার আওয়াজ শুনতে না পায়, সে জন্য উচ্চৈঃস্বরে কথা বলাও বারণ ছিল তাদের। আবার তালেবান ক্ষমতায় এসেছে। মাঝের দুই দশকে আফগান নারীদের অধিকার বলতে কিছুই বাড়েনি; কিন্তু সাহস অনেকটাই বেড়েছে। তালেবানের বন্দুকের সামনে আফগান নারীরা বলতে শিখেছে, ‘অধিকার চাই।’

আফগান নারীদের এই ‘স্পর্ধাকে’ স্বাভাবিকভাবেই দমন করার চেষ্টা করছে তালেবান। তবে আগের শাসনামলে সড়কে একাকী বের হওয়া নারীকে তালেবান যেভাবে গুলি করে মেরেছে, এবার সেই সাহস দেখানোর ক্ষেত্রে তারা কিছুটা পিছু হটেছে।

তালেবান ক্ষমতা দখলের পরই যেসব বিষয় নিয়ে ‘দুশ্চিন্তা’ তৈরি হয়, নারীর অধিকার সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। কারণ তালেবানের শাসনামলে সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে নারীরাই। তাদের প্রথম শাসনামলে আট বছরের বেশি বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা ছিল। যেমন—নারীরা এমন কোনো হিল জুতা ব্যবহার করতে পারবে না, যেগুলো পায়ে দিয়ে হাঁটলে শব্দ হয়; কোনো জায়গার নামের সঙ্গে নারী শব্দ ব্যবহার করা যাবে না; বোরকা ছাড়া যাওয়া যাবে না ঘরের বারান্দায়; রেডিও, টেলিভিশনসহ যেকোনো জনসমাগমে নারীদের উপস্থিতিও নিষিদ্ধ ছিল।
এবার তালেবান ক্ষমতায় আসার পর কাবুলের রাজপথে যতগুলো বিক্ষোভ হয়েছে, সেগুলোর বেশির ভাগই ছিল নারীদের। গত ৭ সেপ্টেম্বর রাজধানী কাবুলের অন্তত তিনটি এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে নারীরা। নারীর অধিকার দাবিতে এবং আফগান রাজনীতিতে ‘পাকিস্তানি হস্তক্ষেপের’ প্রতিবাদে ওই কর্মসূচি পালিত হয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ফাঁকা গুলি ছোড়েন তালেবান যোদ্ধারা। ওই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন সারাহ ফাহিম নামের এক নারী। তিনি বলেন, ‘আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। আমরা মুক্ত আফগানিস্তান চাই। আমরা এমন একটা দেশ চাই, যেখানে সবাই স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ পাবে।’

তালেবানের হুমকি উপেক্ষা করে পরের দিনও (৮ সেপ্টেম্বর) কাবুলের রাজপথে নামে অনেক নারী। তাদের অনেকের হাতে থাকা পোস্টারে লেখা ছিল, ‘জীবন চলে যাক, তার পরও অধিকার আদায় করে ছাড়ব।’ ওই দিনও মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে ফাঁকা গুলি চালান তালেবান যোদ্ধারা।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে নারীদের না রাখার প্রতিবাদে গত বুধবারও কাবুলের রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। সেখানে অনেক নারী স্লোগান দেয়, ‘আমরা সম-অধিকার চাই; আমরা সরকারের অংশ হতে চাই। আমরা এই সরকার মেনে নেব না।’

অবশ্য নারীদের এই সাহসের মুখে কিছুটা নমনীয় হতে বাধ্য হয়েছে তালেবান। তারা এরই মধ্যে জানিয়েছে, নারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতে পারবেন; কিন্তু একই শ্রেণিকক্ষে ছেলে-মেয়েদের পড়ানো যাবে না। পরে অবশ্য অনেক শ্রেণিকক্ষে পর্দা টানিয়ে ছেলে-মেয়েদের আলাদা করে ক্লাস নেওয়া হয়। তালেবান প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আফগান নারীরা চাকরিও করতে পারবেন। তবে এতটুকুতে সন্তুষ্ট নন অনেক আফগান নারী। তারা সব কিছুতেই সমান অধিকার চান। 

এদিকে, গত বুধবার তালেবান সব অননুমোদিত বিক্ষোভের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে এবং বৃহস্পতিবার তারা কাবুলে টেলিযোগাযোগ সংস্থাগুলোকে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশনাও দেয়। বিক্ষোভ চলাকালে এক তরুণসহ অন্তত চার জনের মৃত্যুর কথা জানা গেছে। 

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর