রোববার   ১৯ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ৫ ১৪২৬   ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

৪২

আওয়ামী লীগ মুখরোচক প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাসী নয়: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ

প্রকাশিত: ৮ জানুয়ারি ২০২০  

দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ মুখরোচক প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাসী নয়। আমরা তা-ই বলি, যা আমাদের বাস্তবায়নের সামর্থ্য রয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বর্তমান সরকারের ১ বছরপূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণ মানুষকে ঘিরেই আমার সব কার্যক্রম। আপনাদের (জনগণ) ওপর আমি পূর্ণ আস্থা রাখি। বাংলাদেশের মানুষ অসাধারণ পরিশ্রমী এবং উদ্ভাবন-ক্ষমতাসম্পন্ন। তাই যেকোনও পরিস্থিতির সঙ্গে তাঁরা নিজেদের মানিয়ে নিতে সক্ষম।

অল্পতেই সন্তুষ্ট এ দেশের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। জাতির পিতা আজীবন সংগ্রাম করেছেন এসব মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য, তাঁদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। তাঁর কন্যা হিসেবে আমার জীবনেরও একমাত্র লক্ষ্য মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। আমার ওপর ভরসা রাখুন। আমি আপনাদেরই একজন হয়ে থাকতে চাই।’

শেখ হাসিনা বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের এক বছর পূর্ণ হলো। বিগত এক বছর চেষ্টা করেছি জনগণকে সর্বোচ্চ সেবা দিতে। সবক্ষেত্রে শতভাগ সফল হয়েছি তা দাবি করা যাবে না। কিন্তু এটুকু জোর দিয়ে বলা যায় চেষ্টার ত্রুটি ছিল না। অতীতের ভুল-ভ্রান্তি এবং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাব। সামনে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসবে। সকলের সহযোগিতায় সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আমরা রূপকল্প- ২০২১ ঘোষণা করেছিলাম, যার অন্তর্নিহিত লক্ষ্য ছিল ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত করা। মাথাপিছু আয় ১২০০ মার্কিন ডলার অতিক্রম করায় বিশ্বব্যাংক ২০১৫ সালে বাংলাদেশকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে যেখানে মাথাপিছু আয় ছিল ৫৪৩ মার্কিন ডলার, ২০১৯ সালে তা ১ হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। পবিত্র ইসলাম ধর্মের অপব্যাখ্যা করে কেউ যেতে তরুণদের বিপথে পরিচালিত করতে না পারে, সে জন্য মসজিদের ইমামসহ ধর্মীয় নেতাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। যেখানে হিংসা-বিদ্বেষ হানাহানি থাকবে না। সকল ধর্ম-বর্ণ এবং সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন। সকলে নিজ নিজ ধর্ম যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করতে সক্ষম হচ্ছেন।

বক্তৃতার শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঙালি জাতি বীরের জাতি। এমন জাতি পৃথিবীতে কোনো দিন পিছিয়ে থাকতে পারে না। বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে। আসুন, দল-মত নির্বিশেষে সকলে মিলে তাঁর স্বপ্নের ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতামুক্ত অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার জন্য নতুন করে শপথ নেই।

 কুষ্টিয়ার  বার্তা
 কুষ্টিয়ার  বার্তা
এই বিভাগের আরো খবর